Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিটিজেন চার্টার

সিটিজেন চার্টার (নাগরিক সনদ)

 

১.  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সিটিজেন চার্টার

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি কৃষি বিষয়ক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানএ অধিদপ্তরের মূল দায়িত্ব হচ্ছে আধুনিক ও উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখাকৃষি উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত সকল সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে সমন্বয় সাধন করে দেশের কৃষি উন্নয়নের গতিধারাকে বেগবান করাএ লক্ষ্যে কৃষি বিষয়ক উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং সরকারের কৃষি বিষয়ক সকল কর্মসূচী বাসত্মবায়নের কাজে কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায় পর্যমত্ম বর্তমানে প্রায় ২৪,০০০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেনকৃষি পরিবেশ, কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, কৃষকের চাহিদা ও বাজার চাহিদা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি সেবা প্রদান করে আসছেসার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টার নিমণরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে

 

(১)  সকল শ্রেণীর কৃষকের জন্য কৃষি বিষয়ক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ সহায়তা দেয়াঃ

সকল শ্রেণীর কৃষক পরিবারের সদস্যগণ যাতে প্রয়োজনমত কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ক সেবা পেতে পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করা

 

(২)  প্রদর্শনী পস্নট স্থাপন, মাঠ দিবস, কৃষক সমাবেশ ও কৃষক র্যাললীর মাধ্যমে ফসলের উন্নত জাত ও উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করনঃ

কৃষি বিষয়ক উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণের বিভিন্ন ধরনের কলা-কৌশল ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের ফসল আবাদের বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা

 

(৩)  আইপিএম প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে ফসলের রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদানঃ

ফসলের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করাআইপিএম পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধবভাবে ফসলের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করা

 

(৪)  কৃষি বিষয়ক কর্মসূচী প্রণয়ন প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণ এবং চাহিদা ভিত্তিক কৃষি সম্প্রসারণ সেবা প্রদানঃ

মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি সম্প্রসারণ সেবার চাহিদা নিরূপণ করা কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাসত্মবায়ন করা

 

(৫)  কৃষি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে যোগাযোগ স্থাপন এবং গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রযুক্তিসমূহ কৃষকদের মাঝে সম্প্রসারণ করাঃ

সকল কৃষি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে কার্যকরী যোগাযোগ রক্ষা করামাঠের সমস্যা ও কৃষকের চাহিদা ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণে প্রতিষ্ঠান সমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করাকৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমূহ কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সমূহ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা

 

(৬)  সম্প্রসারণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদানঃ

উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল সত্মরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা

 

(৭)  কৃষকদের বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানঃ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচী ও প্রকল্পের কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের নির্দিষ্ট প্রযুক্তি এবং সুনির্দিষ্ট বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা

 

(৮)  বিভিন্ন ধরনের সম্প্রসারণ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ সেবা কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেয়াঃ

ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পত্র-পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন সহ কৃষি সম্প্রসারণের সকল কলা কৌশল ব্যবহার করে কৃষি বিষয়ক তথ্য কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেয়া

 

(৯)  কৃষি সংশ্লিষ্ট সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ সেবা কার্যক্রম পরিচালনাঃ

জাতীয় পর্যায় এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিষয়ক কর্মকান্ডে জড়িত সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সামগ্রিক কৃষি সম্প্রসারণ সেবা পরিচালনা করা

 

(১০)  পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশ বান্ধব কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগে কৃষকদের সহায়তাকরণঃ

বিশ্বের পরিবেশগত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়সমূহ বিবেচনা করে পরিবেশ সম্মত উপায়ে কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা

 

(১১)  বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানঃ

পারিবারিক চাহিদা পূরণের নিমিত্তে চাষাবাদ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফসল আবাদ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা

 

(১২)  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ই-কৃষি সেবা কার্যক্রম পরিচালনাঃ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি দ্রম্নততার সাথে কার্যকরী ভাবে কৃষি বিষয়ক সকল তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকদের নিকট পৌছে দিয়ে দেশে ই-কৃষি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা

 

(১৩)  কৃষি যান্ত্রিকীকরণঃ

বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথ সাথে বর্তমানে কৃষি ক্ষেত্রেও উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার হচ্ছেআমাদের কৃষকদের চাহিদা ও সাধ্যের ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা

 

(১৪)  মাটির স্বাস্থ্য রক্ষাঃ

ফসল উৎপাদন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনার জন্য মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে জৈবসার প্রয়োগ, গ্রীন ম্যানিউর ব্যবহার, ক্রপ রোটেশন ও ফসল নির্বাচন সহ সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার অনুকূলে পরিচালনা করাএ সকল বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা

 

(১৫)  উচ্চ মূল্য ফসল চাষাবাদে কৃষকদের কারিগরী সহায়তাসহ বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদানঃ

ফসল উৎপাদন কার্যক্রমকে লাভজনক করার লক্ষ্যে উচ্চ বাজার মূল্যের ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছেকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সম্প্রসারণ কর্মীগণ উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরী সহায়তা প্রদান করছেন

 

(১৬)  মাশরুম চাষ সম্প্রসারণে কৃষক/কিষাণীদের কারিগরী সহায়তা প্রদান এবং মাশরম্নমের বীজ বা স্পোন সরবরাহ করাঃ

মাশরুম একটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফসলকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাশরম্নম চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেকৃষকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরী সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে

 

(১৭)  প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠ ও উদ্যান ফসলের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য কারিগরী ও পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণে কৃষকদের সহায়তা করাঃ

বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ দেশবিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষকের ফসলকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য সামাজিক নিরপত্তা কার্যক্রমের আলোকে কৃষি পুণর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকেএ কার্যক্রমের আওতায় কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান করে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করা হয়

 

(১৮)  বসতভিটা ও শহরাঞ্চলের ইমারতের ছাদে উদ্যান ফসল চাষে কারিগরী সহায়তা প্রদানঃ

প্রতিটি বসতবাড়িকে কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে বসতবাড়িতে শাক-সবজি, ফলমূল উৎপাদন কাযর্ক্রম পরিচালনা করা হচ্ছেশহরাঞ্চলের বসতবাড়ি সমূহকে  ফসল উৎপাদন কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করছে বাড়ির ছাদে বাগান করে ফুল, শাকসবজি ও ফল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরী সহায়তা প্রদান করা হয়

 

(১৯)  উদ্যান ফসলের নার্সারি স্থাপনে কারিগরী সহায়তা প্রদানঃ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারাদেশে ৭২টি হর্টিকালচার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে উক্ত সেন্টারসমূহের মাধ্যমে উদ্যান ফসলের উন্নতমানের বীজ/চারা/কলম সরবরাহ করা হয়এছাড়াও বেসরকারী পর্যায়ে নার্সারী স্থাপনে উৎসাহী উদ্যাক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরী পরামর্শ প্রদান করে থাকে

 

(২০)  ফসলের আবাদ ও উৎপাদন তথ্য নিরূপণে পরিসংখ্যান বিভাগকে সহায়তা প্রদানঃ

দেশে বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ এবং উৎপাদন বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ ও চূড়ান্ত করার কাজে পরিসংখ্যান বিভাগের সাথে যৌথভাবে কাজ করে

 

(২১) ফসলে রোগ বালাইয়ের সতর্কীকরণ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাষ কৃষকদের নিকট পৌঁছে দেয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসল রক্ষার্থে করণীয় বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদানঃ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কমর্কর্তা ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীগণ নিয়মিতভাবে মাঠ পরিদর্শন করে ফসলের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও রোগবালাই সংক্রমণ বিষয়ে আগাম সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেন।

 

(২২)  উন্নত মানের বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বীজ বিনিময়ে সহায়তা প্রদানঃ

ফসল উৎপাদনের জন্য উন্নতমানের বীজের ব্যবহার একটি অন্যতম বিষয়। সরকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কৃষকের চাহিদা মাফিক সকল বীজ সরবরাহ করা সম্ভব হয়না। সেক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উক্ত কার্যক্রমের আওতায় চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিনিময়ের জন্য কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং কারিগরী সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।

 

(২৩)  সার ও বালাইনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও বাজার মনিটরিং করাঃ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাসায়নিক সার বিতরণ ব্যবস্থা তদারকি করে। রাসায়নিক সারের গুণগতমান রক্ষার জন্য কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়মিতভাবে সারের নমূণা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। কীটনাশকের গুণগতমান বজায় রাখার নিমিত্ত অনুরূপ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

 

(২৪)  প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন সেবা প্রদানঃ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ের কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের সহায়তায় পস্ন্যান্ট কোয়ারেন্টাইন সেবা প্রদান করে। স্থল, নৌ ও বিমান বন্দর সমূহে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার রয়েছে।বিদেশ থেকে যে কোন কৃষিজাত পণ্য আমদানী করা হলে এই সেন্টার সমূহে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক কোয়ারেন্টাইন সনদ প্রদান করা হয়।